Editor choice

চায়না আর গ্লোবাল ফোন কিভাবে চিনবেন? রিফারবিশড ফোন কেনা থেকে কিভাবে বাচবেন?

চায়না আর গ্লোবাল ফোন কিভাবে চিনবেন? রিফারবিশড ফোন কেনা থেকে কিভাবে বাচবেন? পুরা পোষ্ট টা পড়ুন। আশা করি উপকৃত হবেন।

Redmi Note 5 (AI) এই ফোনটার দুইটা ভার্শন বাজারে আনঅফিশিয়ালি পাওয়া যায়। একটা চায়না ভার্শন একটা গ্লোবাল ভার্শন। দুইটা ফোনে মূলত হার্ডওয়্যারে কোন পার্থক্য নেই। সফটওয়্যারে একটায় চায়না ভার্শনে চায়না রম থাকে আর গ্লোবাল ভার্শনে গ্লোবাল রম থাকে। ব্যাস এই টুকুই আপাত দৃষ্টিতে পার্থক্য। রম নিয়ে সংক্ষেপে বললে, চায়না রমে গুগল সার্ভিস ডিফল্ট ভাবে দেয়া থাকে না। কারন চায়নায় গুগলের অনেক সার্ভিস নিষিদ্ধ এবং চায়না রম মূলত চায়নার লোকজনদের জন্যই ডেভেলপ করা হয়ে থাকে। তাই গুগলের সার্ভস যেমন, প্লে স্টোর, ম্যাপ এইগুলা ম্যানুয়ালি ইনস্টল করে নিতে হয়। চায়না ভার্শনে কিছু চাইনিজ এপ প্রি ইনস্টল করা থাকে তার মধ্যে কতগুলা আন ইনস্টল করা যায় কতগুলা করা যায় না। আরেকটা পার্থক্য হচ্ছে চায়না রমে থিম এপ টা ও চায়না ভাষায় থাকে তাই একটু ঝামেলা হয়। পাঠাও, উবারে লোকেশন ডিটেক্ট করতে একটু ঝামেলা করে চায়না রম এ। এছাড়াও চায়না রম এ চাইনিজ ভাষা বাদে আপনি শুধু ইংরেজী ভাষা ব্যাবহার করতে পারবেন।

আর গ্লোবাল রমে এই টাইপ ঝামেলা নাই। যেকোন ভাষায় ব্যাবহার করতে পারবেন। গুগল সার্ভিস প্রি ইনস্টল করা থাকে, লোকেশন এ ও কোন ঝামেলা করে না।

তবে গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট এর তুলনায় চায়না ভেরিয়েন্ট এর দাম কম হওয়ায় অনেকে চায়না টা নেন। আবার অনেকে এই টুকটাক প্যারা নিতে চান না তাই একটু দাম দিয়ে গ্লোবাল ভেরিয়েন্ট টা নেন।
বিপত্তি ঘটে এইখানেই। অনেক অসাধু ব্যাবসায়ি কাস্টমারদের সরলতার সুযোগ নিয়ে চায়না ভ্যারিয়েন্ট এর ফোনে গ্লোবাল রম ফ্ল্যাশ করে সেটাকে গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট বলে বেশি দামে বিক্রি করেন। অনেক ক্রেতা এই ব্যাপার গুলা বুঝেন না তাই ঠকেন।

নিচের স্টেপ গুলা একটু ভালো করে ফলো করলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি আসলেই গ্লোবাল কিনছেন নাকি চায়না ভার্শনে গ্লোবাল ফ্ল্যাশ মারা ফোন কিনছেন? অথবা কাস্টম গ্লোবাল রমের ফোন কিনছেন?

১:- চায়না ভ্যারিয়েন্ট এর বক্স থাকে লাল। আর সাথে কিছু চাইনিজ লেখা থাকে। Redmi Note 5 এই লেখাটায় Redmi লেখাটা চাইনিজ ভাষায় লেখা থাকবে।আর বক্স এর পিছন দিকে কনফিগারেশন গুলা চায়না ভাষায় লেখা থাকে।
গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট এর বক্স কমলা কালার। সামনে শুধু Redmi Note 5 লেখা থাকবে (পুরাটা ইংলিশ এ)। পিছনে কনফিগারেশন লেখা থাকবে ইংরেজিতে।

এইটা হচ্ছে চায়না আর গ্লোবাল চেনার একদম বেসিক উপায়।

২:- চায়না ভ্যারিয়েন্ট আর গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট এর আরেকটা পার্থক্য হচ্ছে চার্জারে। চায়না ভেরিয়েন্ট এর এডাপ্টারের যেই প্লাগ গুলা আছে ওইগুলা চ্যাপ্টাকৃতি। আর গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট এ গোলাকৃতি (চিকন বা মোটা) হবে।
এইটা যাস্ট একয়া ক্রাইটেরিয়া। এইটা দিয়েই যে চায়না/গ্লোবাল বুঝা যাবে তা না। ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তন হতে পারে।

৩:- ভেরিফাই করেও আপনি এইটা বুঝতে পারবেন। চায়না টা ভেরিফাই করলে চাইনিজ কিছু ভাষা দেখাবে সাথে মডেল নাম্বার দেখাবে। আর গ্লোবাল টা ভেরিফাই করলে সব ইংরেজি লেখা আসবে। লোকেশন কই আসলো এইটা কোন ফ্যাক্ট না। ভাষা টা খেয়াল করবেন।

৪:- ফোনের ব্যাকপার্টে কিছু লেখা থাকে ছোট করে। স্টিকার যেটা থাকে ওইটায় না, একদম ফোনের বডিতে থাকে লেখা। ভালো করে খেয়ল করবেন লেখা গুলা।
গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট এ এইখানে সব ইংরেজিতে লেখা থাকবে। আর চায়না ভ্যারিয়েন্ট এ ইংলিশ আর চাইনিজ মিলিয়ে লেখা থাকবে।

৫ঃ- তারপর চেক করবেন ফোনের বুটলোডার লক আছে কি না। চেক করতে Setting>About Phone>MIUI Version এ ৭-৮ বার ট্যাপ করবেন পরপর। ডেভেলপার অপশন চালু হবে। তারপর Setting>Additional Setting>Developer Option>MI Unlock Status এইখানে যেয়ে দেখবেন বুটলোডার আনলক আছে নাকি লকড। নতুন ফোনে অবশ্যই বুটলোডার লকড থাকবে।

৬ঃ- এবার ধরেন গ্লোবালের বক্স চার্জার সব ঠিক আছে। রম ও গ্লোবাল। এখন কি করবেন? অফিশিয়াল রম অফিশিয়াল মেথড এ ফ্ল্যাশ করলে এইটা বুঝা একটু টাফ। তবে আন অফিশিয়াল গ্লোবাল রম এর এবাউট এ গেলে আপনি ব্যাপার টা হয়তো ধরতে পারবেন।
About Phone এ গিয়ে MIUI Version এর নিচে দেখবেন Model Name এ M1803RS7G এমন থাকবে। এইটা নোট ৫ AI এর গ্লোবাল ভার্শনের মডেল নেম। যদি দেখেন নাম এমন নাই কিন্তু রম গ্লোবাল তাইলে ভাববেন অবশ্যই এইখানে একটা ঘাপলা আছে।

৭ঃ- অফিশিয়াল চায়না আর গ্লোবাল রম সবাই চিনেন আশা করছি। তা ও যদি সংক্ষেপে বলি- অফিশিয়াল MIUI Version এ ডিজিট গুলার মাঝে তিনটা ডট থাকে। যেমন- 9.2.1.0, 9.5.19.0, এমন। ডিজিট কয়টা এইটা ভ্যারি করতে পারে তবে ডট তিনটা থাকবে।
আর গ্লোবাল রম এ
MIUI Global 9.5 | Global
9.5.19.0 (OEIMIFA) এমন থাকবে।
আর চায়না রম এ শুধু গ্লোবাল এই শব্দ টা থাকবে না। 

এইগুলা তো গেলো মোটামোটি চায়না আর গ্লোবাল চেনার উপায়। এইবার ফোন কেনার সময় কিছু বেসিক জিনিসপত্র দেখে নিবেন। তাহলে খারাপ প্রোডাক্ট কেনার চান্স একটু হলেও কমবে।

১:- ফোনের সাইড গুলা খুব ভালো করে দেখবেন। কোথাও কোন ডেন্ট আছে কিনা খুব ভালো করে খেয়াল করবেন।

2:- পুরা ফোনের বডি চেক করবেন কোথাও রঙ উঠসে কি না।

৩:- পিছনের আর সামনের ক্যামেরা গুলা ভালো ভাবে খেয়াল করবেন ভিতরে কোন বালি বা অন্য কোন ময়লা ঢুকসে কি না।

৪:- চার্জিং পোর্ট, স্পিকার গ্রিল, ইয়ারফোন জ্যাক সব গুলা ভালো করে খেয়াল করবেন। যেনো ভিতরে কোন বালি বা ময়লা না থাকে। অথবা ইউজ করার ফলে ঘষা লেগে দাগ হয় এক প্রকার তেমন দাগ যেনো না থাকে।

৫ঃ- ডিসপ্লের সাথে ফোনের যেই অংশটা লেগে থাকে ওইটা পুরাটা খুব ভালোভাবে খেয়াল করবেন। যেকোন কোন দিক দিয়ে ফাঁকফোকর না থাকে। অর্থাৎ ডিসপ্লের সাথে ফোনের বডি যেনো ভালোভাবে লেগে থাকে।

৬:- দুইটা সিম লাগাইয়া দেখবেন নেটওয়ার্ক ঠিকমত পায় কি না। কারো সাথে কথা বলে দেখবেন আপনি ও অপর পক্ষ ঠিকঠাক শুনতে পায় কি না।

**********************************************

সর্বশেষ

অনেকে হয়তো ব্যাপার গুলা আগে থেকেই জানেন। কিন্তু কিছু মানুষ জানেন না। তাদের মধ্যে থেকে একজন ও যদি এই পোষ্ট থেকে উপকৃত হয় সেটাই আমার সার্থকতা। আগে জিনিস চিনতে হবে পরে আপনাকে বাজার চিনতে হবে। যদি আপনি জিনিস ই না চিনেন আপনি যত ভালো বাজারেই যান, আপনি ঠকতে পারেন। 

সবাই ভালো থাকবেন। নতুন কিছু জানলে পোষ্ট আপডেট করে দিবো।

Show full profile

স্বপ্ন থাকা খুবই জরুরি...স্বপ্ন না থাকলে ভোরবেলায় ঘুম থেকে ওঠার কোনো মানেই হয় না...সারা জীবন শুয়ে থাকলেই তো হয়...

We will be happy to hear your thoughts

      Leave a reply

      GETSVIEW Forum
      Register New Account
      Nick Name (required)
      Reset Password