ফারমেন্টেড ফুড খাবেন যেসব কারণে

ফারমেন্টেড ফুড বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন খাদ্য শুধু আপনাকে পুষ্টিই সরবরাহ করেনা বরং আপনার শরীরকে মিনারেল ও প্রোটিন শোষণ করতেও সাহায্য করে। গাঁজানো খাদ্য পরিপাক নালীতে উপকারি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে যা ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি কাজ করে কারণ অন্ত্র হচ্ছে ইমিউন সিস্টেমের ‘হার্ট’। ফারমেন্টেড ফুড ল্যাক্টোফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় যেখানে প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া খাদ্যের চিনি ও স্টার্চ খেয়ে ল্যাক্টিক এসিড উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়াটিতে খাদ্য সংরক্ষিত হয় এবং উপকারি এনজাইম, বি ভিটামিন, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রোবায়োটিক উৎপন্ন করে।
.
প্রাকৃতিকভাবে খাদ্যের ফারমেন্টেশনের ফলে খাদ্যের পুষ্টি উপাদান সংরক্ষিত থাকে এবং খাদ্যকে হজম উপযোগী করে ভাঙ্গতে সাহায্য করে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফারমেন্টেড ফুড খাওয়ার প্রচলন চলে আসছে
.
যেমন- জার্মানিতে খাওয়া হয় সাওয়ারক্রাউট(বা
ঁধাকপি লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা) ও কোরিয়াতে কিমচি। আমাদের দেশে আচার ও দই ফারমেন্টেড ফুড হিসেবে পরিচিত। তবে চুলায় জ্বাল দিয়ে যে আচার তৈরি করা হয় তাতে উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকেনা। এছাড়াও ডার্ক চকলেট বিশেষ করে কাঁচা কোকো পাউডার প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ। অর্গানিক এবং ৯০% ডার্ক চকলেট কিনুন। এছাড়াও কোকোতে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক ও বি ভিটামিন থাকে যা অন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় ফারমেন্টেড ফুডের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বলা হয়েছে।

.
আসুন তাহলে জেনে নেই ফারমেন্টেড ফুড খাওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে।
.
১। ফারমেন্টেড ফুড অন্ত্রের মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে।
২। IBS এর উপসর্গ কমায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
৩। ফারমেন্টেড ফুড খেলে মিনিটের মধ্যে পাকস্থলীর এসিডের উন্নতি ঘটে। ফলে বুকজ্বালা করা কমে এবং বদহজম দূর হয়।
৪। অটোইমিউন ডিজঅর্ডার আছে এমন মানুষদের জন্য উপকারি ফারমেন্টেড ফুড। কারণ উপকারি ব্যাকটেরিয়া ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে।
৫। আলসারেটিভ কোলাইটিস বা মলাশয় প্রদাহ কমতে সাহায্য করে।
৬। অন্ত্রের উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় বলে বাওয়েল মুভমেন্ট নিয়মিত হয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
৭। পরিপাকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন- ডায়রিয়া, পেটে গ্যাস হওয়া ইত্যাদি রোগগুলো হয় অন্ত্রে অপকারি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেলে। ফারমেন্টেড ফুড খেলে এই সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে উন্নতি দেখা যায়।
৮। ফারমেন্টেড ফুড সার্বিকভাবেই অন্ত্রের জন্য ভালো। অন্ত্রের প্রদাহ জনিত দীর্ঘমেয়াদী রোগকে ক্রন্স ডিজিজ বলে। যা সাধারণত কোলন ও ইলিয়ামে আলসার ও ফিস্টুলার কারণে হয়ে থাকে। এই ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রেও ফারমেন্টেড ফুড সহায়তা করে থাকে।
৯। উপকারি ব্যাকটেরিয়া দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং মাড়ির রোগ নিরাময়েও সহায়তা করে।
১০। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফারমেন্টেড ফুড যুক্ত করলে ওজন কমতে সাহায্য করে এবং এনার্জি বৃদ্ধি পায়।
১১। রক্তের সুগার লেবেলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া কমায় এবং যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ক্ষত্রেও উপকারি ভূমিকা রাখে ফারমেন্টেড ফুড।
১২। কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, ফারমেন্টেড ফুড অটিজম এর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

We will be happy to hear your thoughts

      Leave a reply

      GETSVIEW Forum
      Register New Account
      Nick Name (required)
      Reset Password